রোজা রাখার ৭টি অসাধারণ উপকারিতা

রমজানে রোজা রাখা একজন মানুষকে অনেক দিক দিয়ে আরও শক্তিশালী ও খাঁটি মানুষে পরিনত করে। রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে একজন মুসলিম পরকালে নিজের মুক্তির পথ সহজ করার পাশাপাশি, ইহকালেও সফল মানুষ হিসেবে জীবন কাটানোর অনেক গুণ অর্জন করতে পারে।

রমজান মাসে বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিমরা যেন একটি ইউনিটে পরিনত হয়। আজ পর্যন্ত কোনও সমাজ বিজ্ঞানী বা ইতিহাসবিদ বিশ্ব জুড়ে কোনও জাতির এতটা দীর্ঘ সময় ধরে একটি ধর্মীয় আচার একসাথে পালন করার নজির দেখাতে পারেননি। বিশ্বের সকল মুসলিম যে একটি জাতি, আলাদা আলাদা দেশ থাকার পরও যে তারা একটি পরিবার – তা এই রমজান মাসে সবচেয়ে ভালো করে চোখে পড়ে।

রোজা রাখার ১২টি অসাধারণ উপকারিতা

০১. চরিত্রকে শক্তিশালী করা

রমজান রোজা

মানুষের নৈতিক চরিত্রকে শক্তিশালী করার জন্য রোজা রাখা একটি দারুন উপায়। রোজার মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ অনুশীলন হয়, অন্তরকে খাঁটি করা যায়, স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য বাড়ে, এবং মনের মধ্যে স্রষ্টা ও সৃষ্টির জন্য ভালোবাসা বৃদ্ধি হয়।

মজার ব্যাপার হল প্রায় সব ধর্মেই না খেয়ে থাকার ধর্মীয় রীতি আছে। কিন্তু ইসলামের রোজার মত দীর্ঘ সময় ধরে কোনও ধর্মেই এটা নেই। আর সেইসাথে, ইসলামে রোজা মানে শুধুই না খেয়ে থাকা নয়। সব রকমের পার্থিব বিনোদন, এবং যে কোনও ধরনের খারাপ কাজ থেকে যে কোনও মূল্যে বিরত থাকাই রোজা।

দীর্ঘ এক মাস ধরে যদি কেউ এটা ঠিকমত পালন করতে পারে – তবে সে আরও ভালো ও চরিত্রবান মানুষ হয়ে উঠবে। কারণ এটা তার অভ্যাসের অংশ হয়ে যাবে।

০২. আত্ম পর্যালোচনা

রমজান মাস নিজের অবস্থান নিয়ে চিন্তা করার জন্য একটি ভালো সময়। এই সময়ে রোজাদারের মন অনেক নরম অবস্থায় থাকে। এবং সে যদি এই সময়টাতে তার সারা জীবনের ভালো ও খারাপ কাজ গুলো নিয়ে চিন্তা করে – তবে সে নিজের জীবন কোনদিকে যাচ্ছে – তার একটি ভালো ধারণা পাবে। এবং এই ধারনাকে কাজে লাগিয়ে সে নতুন করে নিজের জীবনকে সাজাতে পারবে।

সাধারন সময়ে অনেক সময়েই আমরা জীবন নিয়ে চিন্তা করি, কিন্তু সব সময়ে তা আমাদের মাঝে সঠিক উপলব্ধি ঘটায় না। রোজা থাকা অবস্থায় যদি একজন মানুষ গভীর ভাবে চিন্তা করে যে, সে আসলেই কিভাবে জীবন কাটাচ্ছে, নিজের জন্য এবং অন্যের জন্য কি করছে, সত্যিকার ন্যায়ের পথে চলছে কিনা – তাহলে তার মাঝে এক নতুন উপলব্ধির জন্ম হবে। এর ফলে সে তার জীবনকে নতুন ভাবে সাজাতে পারবে।

০৩. মনে দয়ামায়া বৃদ্ধি করে

রোজার একটি বড় দিক হল, ধনী গরিব – সব মুসলিমই এই সময়ে প্রায় একই অবস্থায় দিন কাটায়। খাবার থাকুক বা না থাকুক – একজন রোজদার খাবার বা পানি স্পর্শ করে না।

এই অবস্থায় একজন ধনী হয়ে জন্মানো মানুষও অভাবের যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে। সে যখন রোজা থাকা অবস্থায় অভাবী মানুষের কথা চিন্তা করে – তখন সে আসলেই উপলব্ধি করতে পারে – অভাব কি জিনিস। বুঝতে পারে যারা ঠিকমত খেতে পায় না, তাদের কষ্টটা কিরকম। এর ফলে মানুষের মনে সহানুভূতি ও দয়ার সৃষ্টি হয়। কারণ, আপনি যখন অন্যের কষ্টটা নিজে অনুভব করতে পারবেন – তখনই আপনি পুরোপুরি সহানুভুতিশীল হতে পারবেন। এবং এর ফলে ফলে মানুষের মাঝে নি:স্বার্থ ভাবে অন্যের উপকার করা, এবং আল্লাহ যা তাকে দিয়েছেন – তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মনোভাব সৃষ্টি হয়।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন, ”এই মাস (রমজান) হল গরিব, অসুস্থ, এবং অসহায়দের কাছাকাছি হয়ে তাদের দু:খের অংশীদার হওয়ার মাস। এই মাসে বিশ্বাসী মুসলিমদের খাদ্য ও রোজগার বৃদ্ধি পায়, এবং তারা রহমত প্রাপ্ত হয়।”

ধনী গরিবের সমতা এবং সমাজে সহমর্মীতা ও মায়া মোহাব্বত প্রতিষ্ঠার জন্য রমজান একটি আদর্শ সময়।

০৪.  চিন্তাকে পরিশুদ্ধ করে

রোজা রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার স্রষ্টার প্রতি আরও বেশি সচেতন হয়ে ওঠে। অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে এই সময়ে মানুষের মনে আল্লাহর ভয় ও তাঁর প্রতি আনুগত্য বেশি থাকে। এই সময়ে মনে কোনও আজেবাজে চিন্তা এলেও একজন রোজদার সাথে সাথে তা দূর করে দেয়।

সব ধরনের পাপাচার এবং ভোগকে মানুষ তার ইচ্ছাশক্তি ও স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এড়িয়ে চলে। একজন সত্যিকারের রোজাদার অন্যের ক্ষতি করা তো দূরের কথা, ক্ষতি করার চিন্তাও করতে পারে না। কারণ যখই এই ধরনের কোনও চিন্তা তার মাথায় আসে, তার মনে পড়ে যায় সে রোজা আছে, এবং তার স্রষ্টা তাকে সব সময়ে দেখছেন। এই চিন্তা মাথায় আসার সাথে সাথে মানুষ সব ধরনের খারাপ চিন্তা তার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে।

এই বিষয়টি দীর্ঘ সময় অনুশীলন করলে একজন মুসলিম রোজার সময় ছাড়া এমনি সময়েও খারাপ চিন্তা থেকে বিরত থাকবে। কারণ এক মাস ধরে এটা প্রাকটিস করতে করতে এটা তার অভ্যাসে পরিনত হয়ে যাবে। তবে এটাকে অভ্যাসে পরিনত করতে হলে সত্যিকার অর্থেই রোজা রাখতে হবে। শুধু না খেয়ে থাকলাম, আর অন্য কোনও প্রকার সংযম করলাম না – এটা সত্যিকার রোজা নয়। সত্যিকার রোজা রাখলে যে কেউ আরও শুদ্ধ মানুষে পরিনত হবে।

০৫. প্রোডাক্টিভ কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ায়

রোজার সময়ে রোজদার গণ অহেতুক আড্ডা, বেশি কথা বলা, টিভিতে ইচ্ছামত প্রোগ্রাম দেখা, সিনেমা দেখা, গান শোনা – ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বেশিরভাগ সময় দূরে থাকেন। এই সময়টা মানুষ নফল এবাদত করার পাশাপাশি কোরআন ও ইসলামিক বই পড়া, কোরআন তেলাওয়াত শোনা, ইসলামিক বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা – ইত্যাদি কাজ বেশি করে।

এছাড়া এই সময়ে রোজদারগণ অন্যদের দান করা, মানুষের উপকার করার প্রতি মনোযোগী হন – এবং সস্তা বিনোদন এবং অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করার বদলে ভালো কাজ করার চেষ্টা করেন। যে কোনও ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য এটা অনেক বড় একটি বিষয়।

০৬. একটি স্বাস্থ্যকর দেহ পাওয়াকে সহজ করে

বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে দেখা গেছে, রোজা রাখলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থের অনেক গুলো উপকার হয়। রোজার দৈর্ঘ, সময়, এবং পদ্ধতি স্বাস্থ্যের ওপর দারুন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের হজম শক্তির মাঝে মাঝে বিশ্রাম প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় ধরে খাবার গ্রহণ না করার ফলে হজম প্রক্রিয়ার কারণে সারা বছর ধরে শরীরে জমা হওয়া টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ শরীর ধ্বংস করতে পারে।

রোজার দৈর্ঘ (১২-১৫ ঘন্টা) আসলে মুখে খাবার নেয়া থেকে শুরু করে খাবারটি পুরোপুরি শরীরে প্রসেস হওযার সাথে মেলানো! অর্থাৎ এই সময়টা না খেয়ে থাকলে আসলে কোনও শারীরিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই নেই।

তার বদলে সঠিক ভাবে এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের বাড়তি চর্বি চলে যায়, হার্টের জটিলতা কমে, ঘুমের গভীরতা বাড়ে, ত্বক মসৃণ হয়, স্মৃতিশক্তি বাড়ে, এবং শরীরের সহ্যক্ষমতা বাড়ে।

০৭. জীবনের চরম সত্য উপলব্ধি করানোর মাধ্যমে আরও ভালো মানুষে পরিনত করবে

রমজান মাসের আমল গুলো ঠিকমত করতে থাকলে আপনি পরকাল বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠবেন। জীবনের চরম সত্য – মৃত্যুর ব্যাপারটা আরও ভালোভাবে স্মরণ করবেন। যার ফলে আপনি পার্থিব জীবনকে আরও ভালো ও অর্থপূর্ণ ভাবে কাটানোর জন্য অনুপ্রাণিত হবেন।

আরও ভালো ও সৎ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবেন সব সময়ে। যা আপনার পার্থিব জীবন ও পরকালকে সফল করবে। একজন সত্যিকার মানুষের মত জীবন কাটাতে পারবেন। কারণ মৃত্যুর চিন্তাই আসলে মানুষকে সঠিক ভাবে জীবন চালাতে অনুপ্রেরণা দেয়।




গরমে পানীয় আর খাবার-দাবার কেমন হবে জেনে নিন

গরমে প্রচুর পরিমাণে পানি খান। তাই শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য লবণ-চিনি দেয়া লেবুর শরবত, ডাবের পানি, দইয়ের ঘোল খেতে পারেন।

* বাইরে বের হলে কোল্ড ড্রিংকের বদলে গ্লুকোজ পানি সঙ্গে রাখুন।

* হার্বাল টি, যেমন পিপারমেন্ট টি, গ্রিন টি খেতে পারেন।

* সারা দিনে ৩ লিটার পানি পান করুন।

* গরমে প্রচুর ঘাম হয়। আর এ ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। তাই প্রচুর পানি পান করুন।

* সারা দিনের ক্লান্তির পর কিছুটা রিফ্রেশিং লাগলেও অল্প হলেও অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে। তাই অ্যালকোহল ও ক্যান্ড জুস জাতীয় পানীয় পান না করাই ভালো।

* বাড়িতে বানানো ফলের রস, মিল্ক সেক ইত্যাদি বানিয়ে খেলে ভালোই হয়।

* এই গরমে রাতে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সালাদ বেশি পরিমাণে খান।

* বাড়িতে তৈরি ঠাণ্ডা দই দিয়ে সালাদ খেতে পারেন। এটা গরমে পুষ্টিকরও বটে।

* তরমুজ, ডাব, শসা, পেঁপের মতো মৌসুমি ফল দিনে অন্তত একটা করে খেতে পারেন।

* চাইলে টাটকা ফল দিয়ে ফ্রুট জুস বানিয়ে খেতে পারেন।

* গরমকালে কাঁচা আমের শরবত খুবই উপকারী। এটি হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

* পাকা আম ও কাঁঠাল হাই ক্যালরিযুক্ত খাবার। প্রচুর পরিমাণে খেলে এই গরমে বদ হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে মৌসুমি ফল হিসেবে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

* গরমে বেশি তেল ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

* ডায়রিয়া বা বদহজমের সমস্যা এড়ানোর জন্য রাস্তায় তৈরি জুস বা কাটা ফল খাবেন না।

* পেট পরিষ্কার রাখুন। বেশি পরিমাণে পানি ও শাকসবজি-খেতে চেষ্টা করুন।




গরমে শিশুদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন

জেনে নিন সোনামণিকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ:

  • শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন
  • নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করান
  • গোসলের পর শিশুর শরীর ভালো করে মুছে পাউডার দিন
  • শিশু ঘামাচির উপদ্রব থেকে মুক্তি পাবে
  • গরমে শিশুর খাবার নির্বাচনে সচেতন হতে হবে। শিশুকে পুষ্টিকর এবং শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার দিতে হবে
  • অন্যান্য খাবারের সঙ্গে গরমে শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফলের জুস খাওয়ান
  • গরমে শিশুর দুর্বলতা কাটাতে মাঝে মাঝে খাওয়ার স্যালাইন খেতে দিন
  • সুতি পাতলা কাপড়ের নরম পোশাক পরান
  • বাইরের গরমে শিশুকে কম বের করুন
  • তাকে ধুলাবালি থেকে দূরে রাখুন
  • শিশু ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে
  • শরীরে ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর জ্বর হতে পারে
  • অনেক সময় এমন জ্বর অল্পদিনে এমনিতেই সেরে যায়
  • কিন্তু বেশি দিন গড়ালে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা নিন
  • গরমের সময় শিশুর চুল ছোট করে ছেঁটে রাখুন
  • বড় চুল শুকাতে সময় লাগে, আর ঘামও বেশি হয়
  • শিশুর যেন পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে

•    ঘরে ফ্যান বা এসির তাপমাত্রা শিশু যতটায় স্বত্তি বোধ করে অতটুকুই রাখুন।




নিয়মিত আমলকি খাওয়া উচিত কেন জানেন?

দিনের বেলা অতটা বোঝা না গেলেও সূর্যিমামা যেই না অস্ত গেল, আমনি পারদ যাচ্ছে কমে। রাত যত বাড়ছে, তত কমছে তাপমাত্রা। এদিক সকাল হতেই গরম আসছে ফিরে। এমন পরিস্থিতিতে শরীর খারাপ যে হবেই, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। তবে এই প্রবন্ধটি যদি পড়ে ফেলেন, তাহলে হয়তো শরীর খারাপ নাও হতে পারে। মানে! লেখাটি পড়ার সঙ্গে শরীরের ভাল-মন্দের যোগটা ঠিক কোথায়? আসলে কি জানেন বন্ধু, এই লেখায় এমন একটি ফলের সম্পর্কে লেখা হয়েছে, যা নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরে প্রচুর মাত্রায় প্রবেশ ঘটবে ভিটামিন সি, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং সোডিয়ামের, যা ভিতর এবং বাইরে থেকে শরীরকে এতটাই চাঙ্গা করে তলে যে ঠান্ডা লাগা তো দূর, ছোট-বড় বহু রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। এত দূর পড়ার পর নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে সেই ফলটির সম্পর্কে, যে এই ওয়েদার চেঞ্জের মরসুমে আমাদের চাঙ্গা রাখতে পারে! তাহলে জেনে রাখুন বন্ধু, যে ফলটি খেলে এত উপকার মেলে, সেটি হল আমলকি। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রোজের ডেয়েটে আমলকিকে জায়গা করে দিলে শরীরের নানা উপকার হয়, যেমন ধরুন… ১. গলার ব্যথা নিমেষে কমে যায়: আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত এক গ্লাস আমলা রসে পরিমাণ মতো আদা এবং মধু মিশিয়ে খেলে গলার ব্যথা তো কমেই। সেই সঙ্গে কফ এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, এমন ঠান্ডা-গরম পরিস্থিতিতে গলা ব্যথা শুরু হলে আমলার রসকে কাজে লাগাতে দেরি করবেন না যেন! ২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: আমলিকে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদেরও বার করে দেয়। ফলে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো। ৩. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: সারাক্ষণ কম্পিউটার-মোবাইল ব্যবহার করার কারণে চোখের বারোটা বেজে যাক, এমনটা যদি না চান, তাহলে রোজের ডেয়েটে আমলকির থাকা মাস্ট! আসলে এই ফলটিতে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে চোখ থেকে জল পরা, চুলকানি এবং চোখ ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও কমে। ৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: দেখুন বাঙালি হয়ে জন্মেছি যখন, তখন একটু পেটুক তো হবই। আর সে কারণে গ্যাস-অম্বল যে রোজের সঙ্গী হবে, তা আর নতুন কথা কী! তাই তো কব্জি ডুবিয়ে মুড়ি ঘন্ট, মাছের কালিয়া আর পাঁঠার কারি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমলকিও যদি খেতে পারেন, তাহলে বদহজম নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। কারণ এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের পেটের রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। স্টাইলিশ সম্ভার, Flipkart-এ প্রিমিয়ার ব্র্যান্ডের জিনিস, ফ্রি শিপিং শুক্রবারই শেষ হচ্ছে এই অসাধারণ Deal, এখনই কিনুন Shopping Discovery আরও সহজ। অনলাইন ইলেকট্রনিক্স স্টোরে আসুন ৫. সংক্রমণের আশঙ্কা কমে: ভিটামিন সি হল সেই ব্রহ্মাস্ত্র, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে এতটাই মজবুত করে দেয় যে কোনও জীবাণুই সেই দেওয়াল ভেদ করে শরীরের অন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি ওয়েদার চেঞ্জের সময় সর্দি-কাশির ভয়ও দূর হয়। আর একথা নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে গেছেন যে আমলকি হল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। তাই এই ফলটি যদি নিয়মিত কাঁচা অবস্থায় অথবা শুকিয়ে খেতে পারেন, তাহলে শরীর বাবাজিকে নিয়ে যে আর চিন্তায় থাকতে হবে না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি। ৬. ডায়াবেটিসের মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না: আমলকিতে ক্রোমিয়াম নামে একটি উপাদান থাকে, যা ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার সুযোগই পায় না। তাই সবশেষে একথা বলতেই হয় যে আমলকি খেলে কোনও ক্ষতি হয় কিনা, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জানা না গলেও এই ফলটি যে শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়, সে বিষয়ে যদিও কোনও সন্দেহ নেই। ৭.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে: পরিসংখ্যান বলছে যত দিন যাচ্ছে, তত যেন ক্যান্সার আমাদের ছায়া হয়ে উঠছে। মানে মানুষ যেখানে, সেখানেই এই রোগ নিজের থাবা বসাচ্ছে। তাই তো আগামী ৩-৪ বছরে আমাদের দেশে প্রতি বছর নতুন করে এই মারণ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষে এসে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। এমন অবস্থায় আপনার বিশ্বস্ত সেনাপতি হয়ে উঠতে পারে আমলকি। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের বার করে দিয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত হয়। ৮.শরীরের বয়স কমে: আমলকিতে উপস্থিত একাধিক অ্যান্টি-এজিং প্রপাটিজ শরীরের উপর বয়সের চাপ পরতেই দেয় না। ফলে বয়সের কাঁটা পাঁচের ঘর পেরলেও তার আঁচে শরীরে ভেঙে যায় না। তাই শরীরকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যদি চনমনে রাখতে চান, তাহলে একদিনও আমলকি খেতে ভুলবেন না যেন! ৯. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে: হার্টকে সুস্থ রাখতে চান? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে রোজ একটা করে আমলকি খাওয়া মাস্ট! কারণ এতে উপস্থিত একাধিক শক্তিশালী উপাদান, হার্টের আর্টারিকে আক্রমণ করা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও আর থাকে না। ১০.ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: আমলিতে এমন কিছু খনিজ এবং উপাকারি ভিটামিন আছে, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ত্বকের অন্দরে জলের ঘাটতি দূর করে, সেই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদাও মেটাও। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, আমলকি শুকিয়ে তা দিয়ে বনানো পাউডারের সঙ্গে পরিমাণ মতো দই এবং মধু মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে যদি মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একথা হলফ করে বলতে পারি যে খাতায় কলমে আপনার বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স ভুলেও বাড়ার সাহস পাবে না।




দারচিনি গুঁড়ো খাওয়া উচিত কেন জানা আছে?

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ডায়াটারি ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং নানাবিধ ভিটামিনে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন… চুল-পড়া আটকানো আর কোনও সমস্যাই নয় প্রতি বুধবার ওম শ্রী গণেশায় নমহ মন্ত্রটি জপ করলে কী কী উপকার মিলতে পারে জানা আছে? বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো রোগের প্রকোপ কমবে নিয়মিত এক বাটি দই খেলে:

১. রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত দারচিনি খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে একদিকে যেমন উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তেমনি কমতে শুরু করে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। তাই তো বলি বন্ধু, অল্প বয়সেই হার্টের রোগে আক্রান্ত হতে যদি না চান, তাহলে দারচিনির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে দেরি করবেন না যেন!

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য় করে:

সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন নাকি? তাহলে চোখকে বাঁচাতে নিয়মিত দারচিনি খাওয়া চাইই চাই! কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খাওয়া শুরু করলে দেহে এমন কিছু উপাদানের প্রবেশ ঘটে যে তার প্রভাবে চোখের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, ড্রাই আই-এর মতো চোখের রোগের চিকিৎসাতেও দারুন কাজে আসে দারচিনি।

৩. অ্যালঝাইমারের মতো রোগকে দূরে রাখে:

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন সেলের কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু সেল শুকিয়ে যেতেও শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন তো কমেই, তার পাশাপাশি ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, এমনটা কিন্তু আপনার সঙ্গেও হতে পারে। তাই সময় থাকতে থাকতে দারচিনি খাওয়া শুরু করুন। এমনটা করলে দেখবেন বয়স বাড়লেও তার প্রভাব মস্তিষ্কের উপর পরবে না। আসলে দারচিনির অন্দরে থাকা বেশ কিছু উপাদান নিউরনদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ব্রেনের মোটোর ফাংশনে এতটা উন্নতি ঘটায় যে কগনিটিভ ডিজেনারেশন বা মস্তিষ্কের বুড়ো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪. রোগ-জীবাণুর আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা মেলে:

দারচিনিতে থাকা সিনেমেলডিহাইড নামক একটি এসেনশিয়াল অয়েল দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে দেয় যে কোনও ধরনের জীবাণুই ধারে কাছে ঘেঁষার সাহস পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৫. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

দারচিনির মধ্যে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান রক্তচাপ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার এই দুটি রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও চিন্তাই থাকবে না। সেই কারণেই তো যাদের পরিবারে এইসব মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়ম করে দারচিনি খাওয়ার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি মেটে:

শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে যে যে উপাদানগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তার মধ্যে অন্যতম। শুধু তাই নয়, শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর দারচিনি, সেই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রাই বৃদ্ধি করে শরীরের অন্দরে। এবার নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন প্রতিদিন চারচিনির খাওয়ার প্রয়োজন কতটা।

৭. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দারচিনির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৮. দেহের অন্দরে প্রদাহ হ্রাস পায়:

দেহের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ কোষেদের ক্ষতি হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই তো শরীরে যাতে কোনওভাবে প্রদাহের মাত্র বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? প্রতিদিন নিয়ম করে দারচিনি খাওয়া শুরু করুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে! আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

গত কয়েক বছরে এত মাত্রায় সুগার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে যে আমাদের দেশ সারা বিশ্বের মধ্যে ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের ডায়াবেটিসের মার থেকে বাঁচাতে দারিচিনির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মাস্ট! কারণ এই মশলাটি শরীরে প্রবেশ করার পর বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যারা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।




সবুজ আপেল কেন খাবেন ?

কথায় আছে, ‘প্রতিদিন একটি আপেল খান, ডাক্তারের প্রয়োজন দূরে সরান’। কেন রোজ আপেল খেতে বলা হয়? কী গুণ রয়েছে এর, যে কারণে অসুস্থতা ধারে কাছে আসতে দেয় না?

আপেল অতি  উপকারী এক ফল, এটি রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর। আপেল সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে লাল আপেলের চেয়ে সবুজ আপেলের গুণ বেশি। সবুজ আপেল লাল আপেলের মতো তেমন স্বাদযুক্ত না হলেও এই আপেলের রয়েছে অনেক উপকারিতা।

আপেলে আছে শর্করা, ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ, পেকটিন ও ম্যালিক এসিড। শর্করা প্রায় ৫০ শতাংশ। ভিটামিনের মধ্যে আছে ভিটামিন (এ) এবং ভিটামিন (সি) এবং এগুলোর উপস্থিতি আপেলে বেশি। খনিজ লবণের মধ্যে আছে প্রচুর পটাশিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ। সোডিয়ামের পরিমাণ খুবই সামান্য। আসুন জেনে নেয়া যাক সবুজ আপেলের কিছু স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ:

আঁশযুক্ত আপেল

সবুজ আপেলে রয়েছে প্রচুর আঁশ। আঁশ হজমে সাহায্য করে। সবুজ আপেল আমাদের দেহে শক্তি যোগায়। সবুজ আপেলের অন্যতম উপদান কার্বোহাইড্রেট দেহের জন্য খুব উপকারি। বিশেষ করে যারা খেলাধুলা করেন, কঠোর পরিশ্রম করেন তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ আপেল রাখতে পারেন।

হাড় শক্ত করে

সবুজ আপেলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর আয়রন, কপার, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ ও পটাশিয়াম। এই খনিজ উপাদানগুলো হাড়কে শক্ত করে। সবুজ আপেল থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক কার্যক্রমে সাহায্য করে।

ক্ষুধা মেটায়

সবুজ আপেলের জৈব এসিড উপাদান ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই কারো যদি বার বার ক্ষুধা পায় তাহলে মুহূর্তেই একটি সবুজ আপেল খেয়ে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

কোলন ক্যানসারে আপেল

সবুজ আপেলের আঁশ কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

রক্তের দুষিত কোলেস্টেরল কমায়

সবুজ আপেল রক্ত থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়।

স্মৃতিশক্তি প্রখর করে

সবজু আপেল মনের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। নিয়মিত সবুজ আপেল খেলে নিউরোট্রান্সমিটার উত্পন্ন হয় যা স্মৃতিশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালজাইমার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায় সবুজ আপেল।

লিভার সুস্থ রাখে

সবুজ আপেল লিভারকে ভালো রাখে। এটি বিভিন্ন ধরনের লিভারের সমস্যা প্রতিরোধে সরাসরি কাজ করে। লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিন আপেল জুস খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

সবুজ আপেলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল। এগুলো বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। তাই সবুজ আপেলকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর ঠিক থাকে




লাউ শাক কেন খাবেন? জেনে নিন এর চমৎকার সব উপকারিতা!

লাউ শাক ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার। গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কর্ড এবং মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ প্রয়োজন। ফলিক এসিডের অভাবে গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কর্ডের বৃদ্ধি ব্যহত হয়; যার ফলে প্যারালাইসিস, মস্তিষ্ক বিকৃতি অথবা মৃত শিশু জন্মাতে পারে।

লাউ শাক উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ। ভিটামিন-সি ঠাণ্ডা এবং যে কোন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। লাউ শাকে যথেষ্ট পরিমাণে আঁশ থাকে। লাউ শাকের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে এবং পাইলস প্রতিরোধে সাহায্য করে। লাউ শাক বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জিয়েজ্যান্থিন-এ পরিপূর্ণ। বিটা-ক্যারোটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং লুটেইন ও জিয়েজ্যান্থিন চোখের রোগ প্রতিরোধ করে। উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকায় লাউ শাক অস্টিওপোরেসিস এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।

লাউ শাক পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। পটাসিয়াম কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা শরীরে তরলের মাত্রা ঠিক রাখে এবং হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। লাউ শাকে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় যা হাড় শক্ত ও মজবুত করে।

আয়রন সমৃদ্ধ লাউ শাক রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এবং লোহিত রক্ত কনিকার সংখ্যা বাড়িয়ে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। এই শাকে ক্যালরি কম থাকে এবং এরা কোলেস্টেরল ও ফ্যাট মুক্ত। তাই এটি ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে।




পিত্তথলিতে পাথর কাদের বেশি হয় জানেন?

পিত্তথলিতে পাথর কাদের বেশি হয়- পিত্তথলিতে পাথর হওয়া খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। চারপাশের অনেকেরই এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে শোনা যায়।

এই পাথর কি সত্যি সত্যি পথের কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ি পাথরের মতো, নাকি অন্য কিছু? আর কীভাবেই বা সন্দেহ হবে যে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে আপনার? নিচে এ বিষয়ে রইলো কিছু তথ্য-

পিত্তথলির পাথর: পিত্তথলির পাথর আসলে ছোট ছোট বালুর দানার মতো থেকে শুরু করে মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু, যা বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে। এটা নির্ভর করে কী পদার্থ দিয়ে পাথরটা তৈরি তার ওপর।

কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি এই পাথরগুলো পিত্তরসের সঙ্গে মেশানো অবস্থায় থাকে এবং হালকা বাদামি, ময়লাটে সাদা বা কুচকুচে কালো রঙেরও হতে পারে।

পেটের ডানদিকে যকৃতের পেছনে ও তলার দিকে থাকে পিত্তথলি। পিত্তরস তৈরি করাই এর কাজ। খাবার হজমে, বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার হজম করতে পিত্তরস দরকার হয়। নানা কারণে এই পিত্তথলিতে বিভিন্ন পদার্থ অতিরিক্ত জমে গিয়ে পাথরের সৃষ্টি করে।

যাদের বেশি হয়: স্থূল ও ওজনাধিক্য ব্যক্তিদের পিত্তথলিতে পাথর বেশি হতে দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব বয়স, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাবার অভ্যাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

যেভাবে বুঝবেন: পিত্তথলির অবস্থানটা পেটের কোথায় তা আগেই বলা হয়েছে। পিত্তথলিতে পাথর হলে এতে প্রদাহ হয়, যাকে কোলেসিস্টাইটিস বলা হয়। তখন ওপর পেটের ডানদিকে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

মিনিট খানেক হতে ঘণ্টা খানেক স্থায়ী হতে পারে এই ব্যথা। ব্যথা পেটের পেছন দিকে, কাঁধে, পেটের মাঝ বরাবর এমনকি বুকের ভেতরও ছড়িয়ে পড়তে পারে ধীরে ধীরে। সেই সঙ্গে বমি ভাব বা বমি, হালকা জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় পাথর পিত্তথলি থেকে বোরোতে গিয়ে পিত্তনালিতে আটকে যায় এবং তখন বিলিরুবিনের বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন জন্ডিসও হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য এই উপসর্গের পাশাপাশি পেটের আলট্রাসনোগ্রামই যথেষ্ট।

পাথরের অবস্থান জানতে বা প্রয়োজনে বের করতে ইআরসিপি জাতীয় পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে পেটের আলসার, যকৃতের কোনো সমস্যা বা এমনকি হূদেরাগেও কাছাকাছি ধরনের ব্যথা হতে পারে বলে সেগুলোর অবস্থাও নির্ণয় করে নেওয়া দরকার হয়।

চিকিৎসা: প্রদাহ ও তীব্র ব্যথার সময় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয় না। সাধারণত কয়েক দিনের জন্য মুখে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে প্রাথমিক উপশমের চেষ্টা করা হয়।

পরে পিত্তথলি ফেলে দেওয়ার অস্ত্রোপচারটি সপ্তাহ দুয়েক পর বা দু-তিন মাস পর করলেও ক্ষতি নেই। পেট কেটে বা ফুটো করে—দুভাবেই এই অস্ত্রোপচার করা যায়। তবে পিত্তনালিতে পাথর আটকে গিয়ে থাকলে ইআরসিপি যন্ত্রের সাহায্যে সেটি বের করে আনা হয়।




যে ১১ টি জটিল রোগের মহৌষধ চিরতা পাতা! কিভাবে খাবেন জেনে নিন

সুপ্রাচীনকাল থেকে চিরতা ভারতবর্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতবর্ষ চিরতার আদিনিবাস। বিশেষ করে হিমালয়ের পাদভূমিতে তার উৎপত্তি। সেখান থেকে ভারতের বিভিন্ন অংশে, নেপাল ও ভুটানে তা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষ থেকে ১৮৩৯ সালে চিরতা ইউরোপে প্রবেশ করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ ও চরক সংহিতায় এর উল্লেখ আছে। চিরতার আয়ুর্বেদিক নাম কিরাততিক্তা।

চিরকালের তিতা গাছ বলে হয়তো বাংলায় এর নাম দেয়া হয়েছে চিরতা। কালোমেঘ গাছও তিতা। সে গাছের বাংলা নাম কালোমেঘ, ইংরেজী নামের অর্থ সবুজ চিরতা। তবে চিরতা ও সবুজ চিরতা আলাদা দুটি গাছ। এর বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজী নাম মোটামুটি একই।

এ গাছের হিন্দি নাম চিরেইতা, ইংরেজী নাম চিরেত্তা Chitretta), পাঞ্জাবী নাম চিরেইতা, তামিল নাম নিলাভেম্বু, আরবী নাম কাসাবুজাজারেয়ী। এ গাছের সব অংশই রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা যায়। আয়ুর্বেদিক বৈশিষ্ট্যে চিরতার রসা বা স্বাদ তিতা, গুণ বা ধর্ম লঘু ও শুষ্ক, বীর্য ঠাণ্ডা, বিপাক কটু।

রোগ নিরাময়ে চিরতার সমস্ত গাছই ব্যবহার করা হয়। তবে এর শিকড় সবচেয়ে বেশি কার্যকর। চিরতা চর্ম রোগ ও জ্বর সারাতে এক ওস্তাদ গাছ। এছাড়াও হেপাটাইটিস, ডায়াবেটিস, ম্যালেরিয়া জ্বর, অ্যাজমা প্রভৃতি কঠিন অসুখের চিকিৎসাতেও চিরতা ব্যবহার করা হয়। নিচে চিরতার উল্লেখযোগ্য কিছু ভেষজ গুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

১. জ্বর সারায়
আকষ্মিক ঋতু পরিবর্তনে অনেকের জ্বর হয়, সেই সাথে সর্দি-কাশি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় হাত-পা চিবোয় বা কামড়ায়। এ অবস্থা হলে ৫-১০ গ্রাম চিরতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। পরে তা ছেঁকে সকালে অর্ধেক ও বিকালে অর্ধেক খেতে হবে। কয়েকদিন খেলে জ্বরের এ ভাবটা চলে যাবে।

২. অ্যালার্জি সারায়
যাদের এলার্জি হয়ে শরীর চুলকায়, চুলকানোর জায়গাটা ফুলে লাল হয়ে যায়, ত্বক থাকা থাকা হয়ে ওঠে। তারা চিরতার শরণাপন্ন হয়ে ভালো থাকতে পারেন। অ্যালার্জি সারাতে চিরতার তিতা রস সাহায্য করতে পারে। আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে দিনের মধ্যে ২-৩ বারে খেতে হবে। সেই সাথে খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। যেসব খাবার খেলে অ্যালার্জি হয় সেসব খাবার খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে পুঁইশাক, বেগুন, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, হাঁসের ডিম ইত্যাদি খাওয়া উচিত হবে না।

৩. বমি কমায়
পিত্তজ্বরে অনেক সময় প্রচ- বমি হয়, বমিটা তিতা ও অল্প সবুজ রঙের বা সবুজাভ হলদে। বমি হলে পেটে কিছু থাকে না। সেই সাথে শরীওে দাহ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা সাধারণত শরৎকালে বেশি দেখা যায়। অখাদ্য খেলেও এরূপ হয়। এক্ষেত্রে ২ কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা একটু থেঁতো করে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভিজারোর ২-৩ ঘন্টা পর ছেঁকে পানিটা অল্প অল্প করে খেতে হবে। এতে বমি থেমে যাবে।

৪. প্রবল হাঁপানির উপশম হয়
একজিমার সাথে যাদের হাঁপানি আছে অথবা অর্শের রক্ত পড়াব বন্ধ হওয়ায় হাঁপানি বেড়ে গেছে, অল্প ঠাণ্ডা লাগলে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি হয়ে হাঁপানির টানটা বেড়ে গেছে তারা আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো ৩ ঘণ্টা অন্তর মধুসহ চেটে খাবেন। এতে ২-৩ দিনের মধ্যে প্রবল হাঁপানি কমে যাবে।

৫. কৃমি সারায়
কৃমি হলে পেটের উপরের অংশটা মোচড়ায়, ব্যথা করে। পেটে কৃমি হলে আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো সকালে মধুসহ বা চিনি মিশিয়ে চেটে খাবেন। এরপর পানি খেতে পারেন। এতে কৃমির উপদ্রব চলে যাবে।

৬. চুলকানি সারায়
গায়ে চুলকানি হলে ২০ গ্রাম চিরতাতে অল্প পানি ছিটিয়ে বেঁটে বা ছেঁচে নিতে হবে। তারপর তা লোহার কড়াই বা তাওয়াতে ১০০ গ্রাম সরষের তেল দিয়ে জ্বাল দিয়ে হবে। সরষের তেল গরম হয়ে ফেনামুক্ত হলে তাতে চিরতা ছাড়তে হবে। ভালো করে ভাজা হলে নামিয়ে ছাঁকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চিরতা যেন পুড়ে না যায়। এই তেল চুলকানোর জায়গায় ঘষে অল্প অল্প করে মালিশ করলে দ্রুত চুলকানি সেরে যাবে।

৭. পচা ঘা সারে
ঘা হয়েছে অথচ কিছুতেই সারছে না। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই জল ছেঁকে পচা ঘা ধুয়ে দিলে ২-৪ দিনের মধ্যে ঘায়ের পচানি চলে যাবে ও দ্রুত শুকাবে।

৮. চুল ওঠা বন্ধ করে
কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, অথচ রোজ মাথা থেকে প্রচুর চুল উঠছে। চুল উঠতে উঠতে ঘন কেশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই পানি ছেঁকে তা দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে চুল ওঠা কমবে। একদিন পর পর একদিন এভাবে চিরতার পানি দিয়ে মাথা ধুতে হবে। ৩-৪ বার এভাবে ধুতে পারলে চুল ওঠা অনেক কমে যাবে।

৯. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
চিরতা নিয়মিতভাবে খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে বা কমে। চিরতা দেহে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

১০. রক্তশূণ্যতা কমায়
চিরতা দেহে রক্তকোষ গঠন করে। তাই চিরতা সেবনে রক্তশূন্যতা কমে যায়। এমনকি ঋতুস্রাব বা মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাও কমাতে পারে। কোথাও কেটে গেলে সে কাটা স্থানে চিরতার রস লাগিয়ে দিলে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ, নাক দিয়ে রক্তপড়া এসবও চিরতা বন্ধ করতে পারে।

১১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
চিরতার মধ্যে শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা বার্ধক্যকে বিলম্বিত করে দিতে পারে। এমনকি নিয়মিত চিরতা সেবনে ক্যানসার ও হৃদরোগে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।




লবঙ্গ চায়ের ৯টি অসাধারণ উপকারিতা

প্রাকৃতিক শক্তিতে ভরপুর এই বিশেষ চা-টি শুধু আপনার রসনা তৃপ্তি করবে না, সেই সঙ্গে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতেও নানাদিক থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করে যাবে। তাই তো বলি আর অপেক্ষা নয়, আজই বাজার থেকে লবঙ্গ কিনে এনে বানিয়ে ফেলুন এই হার্বাল চাটি। আর চেখে দেখুন কেমন লাগে! আসলে লবঙ্গের শরীরে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন-

১. সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ চা খাওয়া মাত্র শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে দেহের প্রতিটি কোনায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কর্মক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে শরীরের সচলতাও বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো।

২. রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে
গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগের প্রকোপ যে হারে বেড়েছে তাতে সবারই প্রতিদিন লবঙ্গ চা খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির ভেতরে থাকা নাইজেরিসিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করে এমন খেল দেখায় যে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

৩. আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমে
লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এই ধরনের হাড়ের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক কাপ লবঙ্গ চা বানিয়ে কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই ঠান্ডা চা ব্যথা জায়গায় কম করে ২০ মিনিট লাগালে দেখবেন যন্ত্রণা একেবারে কমে গেছে। প্রসঙ্গত, জয়েন্ট পেন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ওষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. দাঁতের ব্যাথা কমায়
লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। তাই তো এবার থেকে দাঁতে অস্বস্তি বা মাড়ি ফোলার মতো ঘটনা ঘটলে এক কাপ গরম গরম লবঙ্গ চা খেয়ে নেবেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৫. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে
একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, নিয়মিত এক কাপ করে লবঙ্গ দিয়ে বানানো চা খেলে শরীরে ভেতরে অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রপাটিজের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, শরীরের কোনও জায়গায় টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. সাইনাসের প্রকোপ কমায়
মাঝে মধ্যেই কি সাইনাসের আক্রমণ সহ্য করতে হয়? তাহলে তো বলতে হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ লবঙ্গ যে এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাজে আসতে পারে, সে বিষয়ে কি জানা ছিল? আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে উপস্থিত ইগুয়েনাল নামে একটি উপাদান সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আজও এই ধরনের অসুখের চিকিৎসায় লবঙ্গের উপরই ভরসা করে থাকেন।

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে
লাঞ্চ বা ডিনারের আগে লবঙ্গ দিয়ে বানানো এক কাপ গরম গরম চা খেলে হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে পেটের দিকে রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটে। ফলে খাবার হজম হতে সময় লাগে না। তাই যাদের কম ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেলেও বদ-হজম হয়, তারা লবঙ্গ চা পান করে একবার দেখতে পারেন। এমনটা করলে উপকার যে মিলবে, তা হলফ করে বলতে পারি।

৮. ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসে
এবার থেকে কোনও ধরনের ত্বকের সংক্রমণ হলেই চোখ বুজে ক্ষতস্থানে লবঙ্গ চা লাগাতে ভুলবেন না। এমনটা করলে দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারে সময়ই লাগবে না। আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণজনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না।

৯. নিমেষে জ্বরের প্রকোপ কমায়
লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে শরীরে উপস্থিত ভাইরাসেরা সব মারা পরে। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।




বুকে কফ জমেছে? ঘরোয়া সহজ উপায়ে দূর করবেন যেভাবে

শীত আসছে।এই সময়টায় অনেকেই ঠাণ্ডার সমস্যায় ভোগেন; কারো বা বুকে কফ জমে যায়। ভয় নেই। ঘরোয়া উপায়েই এ সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পেতে পারেন।

আদা : এক টেবিল চামচ আদা কুঁচি এক গ্লাস পানিতে মেশান। এবার এটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৫ মিনিট জ্বাল দিন। পানি ফুটলে এতে সামান্য মধু দিয়ে দিন। দিনে তিনবার এটি পান করুন। এ ছাড়া এক চা চামচ আদা কুঁচি, গোল মরিচের গুঁড়া এবং লবঙ্গের গুঁড়া দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি দিনে তিনবার পান করুন। এক টুকরো আদা নিয়ে মুখে চাবাতে পারেন। আদার রস বুকের কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

হলুদ : হলুদে থাকা কারকুমিন উপাদান বুক থেকে কফ দূর করে বুকে ব্যথা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর প্রদাহবিরোধী উপাদান গলা ব্যথা, বুকে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে প্রতিদিন কুলকুচি করুন। এ ছাড়া এক গ্লাস দুধে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে জ্বাল দিন। এর সাথে দুই চা চামচ মধু এবং এক চিমটি গোল মরিচের গুঁড়া মেশান। এই দুধ দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন।

লেবু এবং মধু : লেবু পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। মধু শ্বাসযন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এমনকি এটি বুক থেকে কফ দূর করে গলা পরিষ্কার করে থাকে।

লবণ পানি : বুকের সর্দি, কফ দূর করতে সহজ উপায় হলো লবণ পানি। লবণ শ্বাসযন্ত্র থেকে কফ দূর করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে দিনে দুই-তিনবার কুলকুচি করুন।

পেঁয়াজ : সম পরিমাণ পেঁয়াজের রস, লেবুর রস, মধু এবং পানি একসাথে মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। কিছুটা গরম হলে নামিয়ে ফেলুন। কুসুম গরম এই পানি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এ ছাড়া পেঁয়াজের ছোট টুকরো খেতে




স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০টি মজার কৌশল

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ১০টি- মানুষের ব্রেনকে তুলনা করা হয় কম্পিউটারের সাথে। আপনার ব্রেন যখন শক্তিশালী থাকে এবং যথাযথভাবে কাজ করে তখন মানুষের মেধাগত এবং শারীরিক কাজ নির্বিঘ্ন এবং কার্যকরী হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ব্রেনের ক্ষমতা কমতে থাকে। আমাদের সবারই আকাঙ্ক্ষা থাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পূর্ণ স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার।

লাইফস্টাইল বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘লাইফ হ্যাক’ -এ প্রকাশিত ডেভিড কে উইলিয়ামের নিবন্ধ ব্রেইন এক্সারসাইজ ফর মেমোরি দ্যাট অ্যাকচুয়ালি হেল্প ইউ রিমেম্বার মোর’-এ উঠে এসেছে মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কয়েকটি মজার কৌশল। আপনাদের সুবিধার্থে নিবন্ধটির অনুবাদ তুলে ধরা হলো।

১. দাবা খেলা : ব্রেনের সক্ষমতা বাড়াতে দাবা খেলা পরীক্ষিত একটি উপায়। নিয়মিত দাবা খেলা আপনার ব্রেনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

২. গল্পের মাধ্যমে মনে রাখা : যেকোনও কঠিন বিষয় মনে রাখা খুব সহজ হয়ে যায়, যদি তা কোনও গল্পের মাধ্যমে মনে রাখা যায়।

৩. ফোন নম্বর মুখস্থ : আপনার কয়েকজন প্রিয় মানুষের ফোন নম্বর মুখস্থ করে রাখুন। এতে আপনার ব্রেনের সেলগুলোর মাঝে সংযোগ আরও বাড়বে।

৪. হাতে গুনে অঙ্ক কষা : ছোট খাটো অংকগুলো ক্যালকুলেটরের সাহায্য ছাড়া হাতে গুণেই করুন। এতে ব্রেনের কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে।

৫. কল্পনা করা: কোনও বিষয় শেখার পর কয়েকবার কল্পনা করুন। বারবার মনে করা সেই বিষয়টি আপনার মাথায় বদ্ধমূল করে দেয়।

৬. সশব্দে উচ্চারণ : কোনও বিষয় পরার সময় উচ্চারণ করে পড়লে তা বেশি মনে থাকে। একইসাথে চোখে দেখা এবং কানে শোনার ফলে বিষয়টি মনে ভালোভাবে গেঁথে যায়।

৭. শুনতে শুনতে পড়া : অনেকেই সশব্দে উচ্চারণ করে পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, তাদের জন্য রয়েছে অন্য উপায়। বেশ কিছু বইয়ের অডিও বুক অনলাইনে পাওয়া যায়। অডিও বুক চালিয়ে বই পড়লে তা মনে রাখা অধিক কার্যকরী হয়।

৮. শারীরিক ব্যায়াম : শারীরিক ব্যায়াম বিশেষত কার্ডিও এক্সারসাইজ শরীরের বিভিন্ন রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এর ফলে ব্রেনে রক্ত চলাচলও বাড়ে। ব্যায়াম শরীরের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর মত ব্রেনের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৯. ধ্যান করা : ধ্যান করলে আপনার দুশ্চিন্তা দূর হবে। এর ফলে ব্রেন রিলাক্স থাকবে এবং ব্রেনের সক্ষমতা বাড়বে।

১০. পর্যাপ্ত ঘুম : বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসে একজন মানুষের কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আপনার ব্রেনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম প্রয়োজন।




১০ মিনিট ঘরে তেজপাতা পোড়ালে কী হয়? জানলে আপনিও প্রতিদিন করবেন!

১০ মিনিট ঘরে তেজপাতা পোড়ালে কী হয়? জানলে আপনিও প্রতিদিন করবেন!- শিরোনাম পড়ে নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে, এ কী আজব কথা ! স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আবার তেজপাতাও পোড়াতে হবে নাকি?

আরো কত কী যে শুনব? মজার বিষয়ই বটে ! তবে আপনি কি জানেন, শতাব্দী ধরে তেজপাতা নিরাময়কারী এবং স্বাস্থ্যকর ভেষজ পাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে?

কেবল তেজপাতা খেলে বা ব্যবহার করলেই নয়, পোড়ালেও কিন্তু অনেক উপকার পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি ফুড ট্রিকসে জানা গেল এই তথ্য।

একটি ছাইদানিতে কয়েকটি তেজপাতা নিয়ে ১০ মিনিট ধরে পোড়ান। এতে পাতা পুড়বে, পুড়বে এর মধ্যে থাকা এসেনশিয়াল অয়েলও। ধীরে ধীরে দেখবেন ঘরে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে।

ফলে গন্ধ মনকে সজীব করে দেবে। এটি মন ও শরীরকে প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। এতে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমবে।

প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা তেজপাতাকে পবিত্র ওষুধ বলত। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে একে ব্যবহার করা হতো। সারা পৃথিবীতে অনেকেই এই পাতাকে মসলা হিসেবে ব্যবহার করেন। রান্নার স্বাদ বাড়াতে এবং সুগন্ধ আনতে এর ব্যবহার করা হয়।

তেজপাতার মধ্যে রয়েছে পিনেনে ও সাইনিয়ল নামে দুটি উপাদান। রয়েছে এসেনশিয়াল অয়েল। এর মধ্যে রয়েছে সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ। তেজপাতা চিবালে এসব পদার্থ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক, ডিওরেটিক, স্যাডেটিভ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি মেজাজকে ভালো করে। তেজপাতা পাকস্থলীর ফ্লু নিরাময়েও সাহায্য করে।

তেজপাতার মধ্যে আরো রয়েছে অ্যান্টিরিউম্যাটিক উপাদান। তেজপাতার এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করলে মাথাব্যথা কমে।




আজীবন শক্তি ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার যেসব গুণাবলি

আজীবন শক্তি – সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।

থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।

১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।

২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।

৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।

৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।

৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।

৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।




নাভীতে তেল দেওয়ার যে ৭ টি উপকারিতা আপনি জানতেন না

নাভীতে তেল দেওয়ার যে ৭ টি উপকারিতা আপনি জানতেন না- প্রাকৃতিক তেল আয়ুর্বেদ এর একটি বিশাল অংশ। নিত্যদিনে ব্যবহার্য তেল থেকে শুরু করে এসেনশিয়াল অয়েল সবই এর অন্তর্ভুক্ত। আপনি কি জানেন, সামান্য এই তেল ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্য, আবেগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও অনেকখানি প্রভাব ফেলে?

আপনার শরীরের যেকোন স্থানে আপনি তেল ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি শুনলে খুবই অবাক হবেন যে, আপনার নাভীতে তেল ব্যবহার করার মধ্যেও রয়েছে অনেক দারুণ সকল ভালো দিক!

শরীরের অন্যান্য অংশের দিকে খেয়াল রাখলেও, এই অংশটির প্রতি আমরা একেবারেই খেয়াল রাখি না, এমনকি নাভীর আলাদা করে কোন যত্নও আমরা নেই না। নিজের ত্বকের, শরীরের যত্ন নেওয়া শুরু করতে চাইলে নাভীর যত্ন নেওয়া থেকেই আপনি সেটা শুরু করতে পারেন।

শরীরের খুবই ছোট এই অংশটিকে আপনি যতোটা ছোট মনে করছেন আসলে সেটা আপনার সুস্থতার জন্যেও অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করে। এই ফিচার থেকে জেনে নিন নাভীতে তেল ব্যবহারের কিছু চমৎকার উপকারিতা।

১/ ত্বককে নমনীয় করেঃ

ত্বককে দারুনভাবে নমনীয় করতে তেল খুবই উপকারী একটি উপাদান। বিশেষ করে, শরীরের যে অংশগুলোর যত্ন নেওয়ার কথা আপনি একেবারেই ভুলে যান, সেসব অংশগুলোর জন্যে তেল খুবই উপকারী, যেমন- নাভী, এবং পেটের চারপাশ।

বিশেষ করে শীতের সময়ে যখন আবহাওয়া খুব বেশী শুকনো থাকে তখন তেল খুব দারুণ কাজে দেয়। এক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আপনি নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

এদের মধ্যে রয়েছে ইমোলিয়েন্ট ইফেক্ট এবং ফ্যাটি এসিড এর উপাদান সমূহ। পেটের উপরে কয়েক ফোঁটা তেল দিয়ে নাভী চারপাশ এবং পুরো পেটে তেল ভালোভাবে মালিশ করে নিন। দেখবেন ত্বক একদম নমনীয় হয়ে গিয়েছে।

২/ ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করেঃ

শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন মুখের ত্বক, হাত কিংবা পায়ের যত্ন আমরা অহরহই নিয়ে থাকি। এর মাঝে আমাদের নাভী পরিষ্কার করার কথা আমরা কিন্তু একেবারেই ভুলে যাই।

সেক্ষেত্রে নাভীতে প্রচুর ময়লা জমে খুবই বাজে অবস্থা হয়ে যায়। এই ময়লা পরিষ্কার করার জন্যে একটি কটনবাড তেলে ডুবিয়ে এরপর সেটার সাহায্যে নাভী পরিষ্কার করতে হবে। তেল মরা চামড়া এবং ময়লাকে সহজে উঠে আসতে সাহায্য করে।

যেহেতু নাভী খুব একটা পরিষ্কার করা হয় না, নাভীর ময়লা খুব শক্ত হয়ে আটকে থাকে। সেক্ষেত্রে খুব বেশী জোরাজুরি করলে নাভীতে ব্যথা পাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই খুব সাবধানের সাথে এই কাজটি করতে হবে।

৩/ ইনফেকশন ভালো করতে সাহায্য করেঃ

যেহেতু নাভী খুব দ্রুত ময়লা হয়ে যায় এবং সচরাচর নাভী পরিষ্কার করা হয়ে ওঠে না, সেহেতু নাভীতে জমে থাকা ময়লা থেকে ইনকেশনের সৃষ্টি হয়। এছাড়া নাভী অনেক বেশী সময় ধরে আর্দ্র থাকলেও নাভীতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে।

অন্য যে কারণে নাভীতে ইনফেকশন বেশী হয়ে থাকে, নাভী পরিষ্কার করতে গিয়ে কোন খোঁচা লেগে কেটে গেলে সেখান থেকে ইনফেকশনের সৃষ্টি হয়।

এক্ষেত্রে, সঠিক তেল ব্যবহার করলে নাভীর ইনফেকশন দ্রুত সেরে যায়। টি ট্রি অয়েল সকল তেলের মধ্যে সবচেয়ে দারুণ কার্যকরী। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-ব্যক্টেরিয়াল এবং এন্টি-ফাংগাল উপাদান।

৪/ পেটে ব্যথা ভালো হতে সাহায্য করেঃ

পেটে ব্যথার জন্যে নাভীতে তেল দেওয়া খুবই কার্যকরী একটি উপায়। বিশেষ করে হজমে সমস্যা, ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং এর মতো সমস্যাগুলোতে নাভীতে তেল দেওয়া খুব দারুণ কাজে দেয়। এছাড়া, এটাকে পেট ব্যথার প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

পেটে ব্যথা কমানোর জন্যে আদা অথবা পুদিনা পাতার এসেনশিয়াল অয়েল ভালো কাজে দেয়। নিত্যদিনের ব্যবহার্য তেলে যেমন- নারিকেল তেল কিংবা অলিভ অয়েল এর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৫/ মাসিকে ব্যথা কমাতে সাহায্য করেঃ

প্রতি মাসে মাসিকের সময়টাতে প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কারণে কমবেশি সকল নারীকেই ভুগতে হয়। তবে এই পেটে ব্যথা অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব নাভী এবং পেটে তেল ব্যবহার করার মাধ্যমে।

সকল তেলের মাঝে পুদিনা পাতা অথবা আদার এসেনশিয়াল অয়েল সবচেয়ে বেশী ভালো কাজে দেবে। কয়েক ফোঁটা তেল নারিকেল কিংবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিয়ে পেটে খুব নমনীয়ভাবে ম্যাসাজ করলে কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে ব্যথা কমে গেছে অনেকখানি।

৬/ গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উপকারীঃ

এটা নিশ্চয় জানেন যে, গর্ভধারণ এর সাথে নাভীর একটি যোগসূত্র রয়েছে। আপনি যখন মায়ের পেটে ছিলেন তখন আপনার মায়ের নাভীর সাথেই সংযুক্ত ছিল আপনার নিজের নাভী! নাভীতে সরাসরি তেল দেওয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

নিয়মিত কিছু এসেনশিয়াল অয়েল নাভীতে ব্যবহারের ফলে শরীর অনেক রিল্যাক্স থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে স্পার্ম ভালো থাকে, মেয়েদের মাসিকের সমস্যা কমিয়ে আনে এবং শরীরে হরমোনের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৭/ ‘নাভাল চক্রর’ ভারসাম্য ঠিক রাখেঃ

আয়ুর্বেদে, শক্রি এবং কল্পনার একটি বড় উৎস হলো এই নাভাল চক্র আপনার সকল স্বপ্ন, ইচ্ছা এবং লক্ষ্যের মূল স্থান। আপনি যদি আপনার ক্রিয়েটিভিটি ঠিক রাখতে চান তবে আপনাকে এই নাভাল চক্রটি ঠিক রাখতে হবে।

কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল নারিকেল কিংবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নাভীতে দিতে হবে এবং পুরো পেটে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে হবে।