চুল কালো করার প্রাকৃতিক উপায়

ঘন আর কালো চুলের আকাঙ্ক্ষা থাকে প্রায় সবারই। চুল কালো রাখার নানা কৃত্রিম উপায় বাজারে মেলে। কিন্তু, এই কৃত্রিম জিনিসগুলিতে চুল যত না কালো থাকে তার থেকে বেশি ক্ষতি হয় চুলের। তবে এমন কিছু প্রাকৃতিক জিনিস রয়েছে, যাদের সাহায্য নিলে চুল থাকবে কালো এবং সুন্দর এবং চুলের তো কোনো ক্ষতি হবেই না, বরং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে চুল।

সকালে খালি পেটে ছোলা খান। স্বাস্থ্যের পক্ষে যেমন এটা উপাদেয়, তেমনই ছোলাতে থাকা ফোলিক অ্যাসিড চুলের কালো রং বজায় রাখে। এছাড়াও ছোলাতে থাকে বি১২। চুলের জন্য খুবই সহায়ক এটি।

সিরিয়ালস ভিটামিন বি৯ এবং বি১২ লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। সিরিয়ালসে এই দুটি ভিটামিন বিপুল পরিমাণে পাওয়া যায়। চুলের স্বাভাবিক রঙ বজায় রাখতে সাহায্য করে এই দু’টি ভিটামিন।

শাক-সবজিতে প্রবল পরিমাণে ফোলিক অ্যাসিড থাকে। ফোলিক অ্যাসিড চুলকে কালো রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের স্বাস্থ্যকেও রক্ষা করে।

বাদাম খেলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জল হয়। এ কথা বহু বছর ধরে চলে আসছে। বাদাম খাওয়ার পাশাপাশি, বাদাম বেটে চুলে লাগালেও তা ভালো।

স্যামন মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা চুলের পুষ্টিতে সাহায্য করে।

মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১২ এবং ফোলিক অ্যাসিড মেলে। আর এই দু’টি জিনিস চুলের স্বাস্থ্য এবং কালো রঙ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এইচএন/জেআইএম




চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে করণীয়

 

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চেহারায় তার ছাপ পড়বেই। কিন্তু একটু সচেতন থাকলেই চেহারায় আর ছাপ পড়বে না। আর এই কাজগুলো তেমন কঠিন কিছুই নয়। প্রতিদিনের কাজগুলো একটু নিয়মমাফিক করলেই চেহারায় ধরে রাখতে পারবেন তারুণ্য।

দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি। ঘুমোলে পরিশ্রম, ক্লান্তিভাব দূর হয়। শরীর সতেজ ও সুস্থ থাকে। ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা হাঁটা জরুরি। তবে মৃদুগতিতে হাঁটা নয়, দ্রুতগতিতে হাঁটতে হবে। হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এতে শরীর হয়ে ওঠে ঝরঝরে। অকাল বার্ধক্যের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সূর্যের আলোয় চামড়ায় ট্যান পড়ে। শরীর ও মনের ক্লান্তি জমা হয় ত্বকে। অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন লোশন লাগাতে হবে।

ভালো থাকতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ভাজা জাতীয় খাবার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

ধুমপানের অভ্য়েস থাকলে তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিতে হবে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার, যেমন-পাকা কলা, পাকা পেঁপে, পাকা আম, পাকা পেয়ারা, দই, ছানা, দুধ, ডিম, টাটকা শাকসবজি ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে।

ভালো গান, অবসরে পছন্দের কাজে আস্তে আস্তে মন খারাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। জীবনে সুস্থ ও তরতাজা থাকতে মানসিকভাবে সতেজ থাকাটাও যে জরুরি।

জীবনে অবসাদ থাকবেই। নানা ওঠাপড়া নিয়েই জীবন। স্ট্রেস মাত্রাতিরিক্ত হলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে এক ধরনের হরমোন বের হয়, যা শরীরে টক্সিন ছড়ায়। শরীর বুড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই হরমোন অনেকাংশে দায়ী। তাই সর্বদা ইতিবাচক থাকতে হবে। জীবনের সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলির স্মৃতি অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

এইচএন/জেআইএম




ঘুমের আগে রূপচর্চা কিভাবে করবেন-

যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও ব্রণ আছে, তারা প্যাক ধুয়ে ফেলে ময়েশ্চারাইজারের বদলে ব্যবহার করুন অ্যাসট্রিনজেন্ট। ঘরোয়া অ্যাসট্রিনজেন্ট হলো গোলাপজল ও শশার রস। শশার রস করে বরফ জমানোর পাত্রে রেখে আইস-কিউব করে নিতে পারেন। প্রতি রাতে রস বানানোর ঝামেলায় না গিয়ে একটি কিউব মুখে ঘষে নিন।

সমপরিমাণে পুদিনা পাতা ও নিমপাতা বেটে শুধু ব্রণ ও দাগের উপর লাগিয়ে ঘুমান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন ফেসপ্যাকেও। ব্রণের জন্য ভীষণ উপকারী।

চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে ঘুমানোর আগে কুরানো শশা বা আলু ঠান্ডা হলে ভালো বা ঠান্ডা টি-ব্যাগ চোখের উপর দিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট।

রাতে পা প্রথমে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে, ২ টেবিল চামচ কুসুম গরম অলিভ অয়েল+১ চা চামচ লবণের মিশ্রণ তৈরি করে সেটা পায়ে ভালো করে মাসাজ করুন। এতে মৃতকোষ ঝরে যাবে, গোড়ালি নরম হবে, রক্ত চলাচল ভালো হবে। ধুয়ে লোশন লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের যত্নও নিতে পারেন একইভাবে।

বড় চুল হলে, ঘুমানোর আগে বেণি করে নিন। তাতে চুল সারা রাত ঘষা খাবে না। ছোট চুল হলে খোলা রেখে শুলেও অসুবিধা নেই। তেল মাসাজ করে শুলে ঘুম ভালো হবে।

নখ ফেটে বা ভেঙে যাওয়ার সমস্যা কমাতে ঘুমানোর আগে হাত-পায়ের নখে জলপাই তেল (অলিভ অয়েল) ম্যাসাজ করে নিন। সারা রাত নখ আর্দ্রতা পাবে।

নরম গোলাপি ঠোঁট পেতে প্রতি রাতে ভ্যাসলিনের সঙ্গে অল্প লবণ মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। এতে ঠোঁটের মৃত কোষ ঝরে উজ্জ্বলতা আসবে।

কখনই মেকআপ না মুছে ঘুমাতে যাওয়া উচিত নয়। মেকআপ যখনই করুন, মুখ পরিষ্কার করতে হবে তা না হলে ত্বকের ক্ষতি হবে।

নিয়মিত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পেট পরিষ্কার রাখার জন্যও পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এইচএন/আরআইপি




প্রতিদিনের রূপচর্চায় কিছু ভুল অভ্যাস

 

ত্বকের যত্নে প্রয়োজনীয় রূপচর্চার বিকল্প নেই। কিন্তু সেই রূপচর্চা সঠিক উপায়ে না হলে উপকার তো হয়ই না, বরং তা ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই চলুন জেনে নেই কী সেই ভুল অভ্যাস যার কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়-

মুখ ধোয়ার জন্য কেউই হাত পরিষ্কার করে নেন না। অনেকেই ভাবেন মুখ ধোয়ার সাথে হাতও পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু আপনার হাতে যে জীবাণু রয়েছে তা প্রথমেই ত্বকে চলে যায় এবং সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই আগে হাত ধুয়ে নিন।

Rup-3

অনেকেই শুকনো ত্বকে ক্লিনজার ব্যবহার করে ত্বক ধুয়ে থাকেন এতে ত্বকের অনেক ক্ষতি হয়। প্রথমে ত্বক পানি দিয়ে ভিজিয়ে তারপর ত্বকে ক্লিনজার ব্যবহার করুন।

অনেক সময় নানা ফেসমাস্ক বা উপটান ব্যবহারের পর তা ঠান্ডা বা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া থাকে। তখন আমরা সঠিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে অনেক বড় ভুল করে থাকি। খুব ঠান্ডা বা বেশ গরম পানি দিয়ে ত্বক ধোয়া উচিত নয়।

স্ক্রাবিং ত্বকের জন্য অনেক বেশি জরুরি। এতে করে ত্বকের মরা চামড়া দূর হয় এবং গভীরে জমে থাকা ময়লা দূর হয়।অনেকে বেশি সময় ধরে ত্বক স্ক্রাব করেন যা অনেক ক্ষতিকর। স্ক্রাবার দিয়ে মুখের ত্বক ১/২ মিনিটের বেশি স্ক্রাব করা একেবারেই উচিৎ নয়। কারণ এর বেশি সময় ধরে স্ক্রাব করলে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি হয়।

Rup-3

যেকোনো একটি তোয়ালে দিয়ে মুখ মোছা মোটেও ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। মুখ মোছার তোয়ালে অবশ্যই আলাদা করে রাখবেন। তা না হলে ত্বকে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে।

ত্বক কখনোই তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ঘষে মুছবেন না। এতে ত্বকের টিস্যুর মারাত্মক ক্ষতি হয়। তোয়ালে বা কাপড় চেপে ধরে শুধুমাত্র ত্বক থেকে পানি শুষে নিন।

এইচএন/জেআইএম




ত্বক সুন্দর রাখে মসুর ডাল

 

ত্বকের যত্ন মসুর ডালের ব্যবহারের কথা অনেকেই জানেন। মসুর ডালে উপস্থিত প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কার্বোহাইড্রেড, ডায়াটারি ফাইবার, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, সি,ই, কে এবং থিয়েমিন নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে ত্বককে সুন্দর করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত মসুর ডাল দিয়ে বানানো নানারকম ফেস মাস্ক মুখে লাগাতে শুরু করলে ত্বকে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠতেও সময় লাগে না।

প্রথমে ১ চা চামচ মসুর ডাল পাউডারের সঙ্গে সম পরিমাণ বেসন এবং দই মেশাতে হবে। সঙ্গে যোগ করতে পারেন অল্প করে হলুদও। এবার সবকটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। কিছু সময় অপেক্ষা করার পর মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

এক চামচ মুসুর ডালের পাউডারের সঙ্গে ২ চামচ দুধ, অল্প পরিমাণে হলুদ এবং ৩ ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে ফলতে হবে। এটি ত্বক পরিষ্কারে বেশ কার্যকরী।

প্রথমে ১ চা চামচ মসুর ডাল পাউডারের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু মেশাতে হবে। এরপর ভালো করে দুটি উপাদান মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগাতে হবে। ১৫ মিনিট পেস্টটি মুখে ঘষার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। বলিরেখা দূর করার এটিই সহজ উপায়।

jagonews24

মুখের অবাঞ্ছিত লোম থেকে নিস্তার পেতে ১ চামচ মসুর ডাল পাউডারের সঙ্গে ১ চামচ চালের পাউডার মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সঙ্গে যোগ করতে হবে ১ চামচ দুধ এবং বাদাম তেল। সবকটি উপাদান মেশানোর পর মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্থর সরিয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত করে তুলতে এই ফেসপ্যাকটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে সপ্তাহে দুইবার পরিমাণ মতো মসুর ডালের পাউডারের সঙ্গে অল্প করে দুধ মিশিয়ে যদি মুখে লাগানো যায়, তাহলে ত্বকের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলা বা ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার মতো দুশ্চিন্তা একেবারে দূরে পালায়।

এইচএন/আরআইপি




টুথপেস্টেই ত্বকের যত্ন!

টুথপেস্ট কী কাজে লাগে? ভাবছেন এ কেমন বোকার মতো প্রশ্ন! টুথপেস্ট যে দাঁত মাজার কাজে ব্যবহৃত হয় সেতো সবাই জানে! মজার ব্যাপার হলো শুধু দাঁত নয়, ত্বকের পরিচর্যাতেও সমান কার্যকরী এই টুথপেস্ট! জেনে নিন ত্বকের কিছু সমস্যার সমাধানে টুথপেস্টের ব্যবহার।

টুথপেস্টের ব্যবহার।

Paste-2

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে টুথপেস্টের জুড়ি মেলা ভার। বাইরে যাবার আগে যদি ত্বকের যত্ন নেবার জন্য যথেষ্ট সময় না থাকে তাহলে ব্যবহার করুন টুথপেস্ট। সাধারণ ফেসওয়াসের মতোই টুথপেস্ট ব্যবহার করুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন আর পেয়ে যান উজ্জ্বল ত্বক।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অনিদ্রা ইত্যাদি কারণেও অকালে ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। টুথপেস্টকে পানিতে মিশিয়ে পাতলা করে নিন। এবার মুখ, গলায়, ঘাড়ে এটির প্রলেপ লাগান। না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পেস্ট শুকিয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এভাবে টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। বলিরেখার সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।

Paste-3

ধুলো-ময়লা, দূষণ, মেকআপ ইত্যাদির কারণে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে। ফলে দেখা দেয় ব্ল্যাক হেডস। ব্ল্যাক হেডস-এর পূর্ববর্তী অবস্থা হলো হোয়াইট হেডস। এতে লোপকূপের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। যেসব জায়গায় এই হোয়াইট হেডস রয়েছে সেসব জায়গায় পুরু করে টুথপেস্টের প্রলেপ লাগান। শুকিয়ে গেলে খুঁটে খুঁটে তুলে ফেলুন। এরপর ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ফলাফল মিলবে চমকে দেওয়ার মতো।

ব্রণের সমস্যায়ও টুথপেস্ট দারুণ কার্যকরী। বিশেষ করে ব্যথাযুক্ত ব্রণের ক্ষেত্রে। রাতে ঘুমানোর আগে ব্রণের উপর টুথপেস্টের প্রলেপ লাগিয়ে ঘুমাতে যান। সকালে উঠে দেখবেন ব্রণের ফোলা ভাব অনেক কমে গিয়েছে আর ব্যথাও অনেক কম।




সৌন্দর্য বাড়াতে বাদামের ফেসপ্যাক

বাদাম দিয়ে বানানো যায় এমনকিছু ফেসপ্যাক, যা নিয়মিত মুখে লাগালে স্কিন টোনের উন্নতি তো ঘটবেই, সেইসঙ্গে আরও নানাবিধ উপকার মিলবে। শুধু তাই নয়, দূরে থাকা সম্ভব হবে জটিল সব ত্বকের রোগের থেকেও। চলুন জেনে নেই বাদামের ফেসপ্যাক তৈরি ও ব্যবহারের নিয়ম-

নিয়মিত বাদাম খেলে ও বাদামের ফেসপ্যাক মুখে মাখলে ত্বকে এমনকিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে যে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা তো ফিরে আসবেই, সেইসঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো। এই ফেসপ্যাকটি বানাতে প্রয়োজন পরবে অল্প পরিমাণে গুঁড়ো বাদাম, ওটস এবং দুধের। এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে হবে একটি পেস্ট। তারপর সেটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন ফল মিলতে শুরু করেছে।

Badam-2

ত্বকের সিবেসিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে যদি বেশি মাত্রায় তেল বের হতে শুরু করে, তাহলে অতিরিক্ত তেল এবং গরমের কারণে মুখ তো কালো হয়ে যায়ই, সেইসঙ্গে ব্রণসহ আরও নানারকম ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। এমন সমস্যার সমাধানে একমুঠো বাদাম গুঁড়া নিয়ে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে উঠে পানিটুকু ছেঁকে নিয়ে পরিমাণমতো দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার সেই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ অপেক্ষা করুন। পনেরো মিনিট পর হলকা গরম পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে প্রতিদিন এই ফেস মাস্কটিকে কাজে লাগেল অয়েলি ত্বকের সমস্যা তো কমবেই, সেই সঙ্গ স্কিন উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

পরিমাণমতো মুলতানি মাটি নিয়ে তার সঙ্গে বাদাম গুঁড়া এবং গোলাপজল মিশিয়ে একটি পেস্টা বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ততক্ষণ থাকতে হবে, যতক্ষণ না পেস্টটি শুকিয়ে যাচ্ছে। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে একদিন পরপর ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন মুখের সব দাগ মিলিয়ে গেছে।

Badam-3

ফর্সা ত্বক পেতে পরিমাণমতো চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে বাদাম গুঁড়া এবং দুধ মিশিয়ে বানানো পেস্ট মুখে লাগাতে শুরু করুন। এতে ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্তর সরে যাবে। সেইসঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন যাবে বেড়ে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠতে দেখবেন সময় লাগবে না।

পরিমাণমতো বাদাম গুঁড়ার সঙ্গে সম পরিমাণে অলিভ অয়েল এবং দই মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি নিয়মিত মুখে লাগাতে শুরু করলে দেখবেন ত্বকের বয়স কমবে চোখে পরার মতো।




মুখের ত্বক দাগহীন উজ্জ্বল রাখার উপায়

আমাদের মুখের ত্বককে দাগহীন উজ্জ্বল রাখার জন্য কত কিছুই ব্যাবহার করি কিন্তু এঁর পরেও চোখের নিছের কালো দাগ, ব্রণ, মেছতার দাগ কোনকিছুই পিছু ছাড়তে চায়না । চোখে কালি, ব্রণ বা মেস্তার দাগ, ব্ল্যাকহেডস জমে যাওয়াসহ নানা কারণে মুখের কোনো কোনো অংশের রং পরিবর্তিত হতে দেখা যায়। পুরো মুখের ত্বক দাগহীন উজ্জ্বল রাখতে কীভাবে রূপচর্চা করতে পারেন তা জেনে নিন

মুখে ব্রণের কালো দাগ দূর করতে:

১। কাঁচা ব্রণে সমপরিমাণ লবঙ্গ, তুলসীপাতা, নিমপাতা, পুদিনাপাতা একসঙ্গে পেস্ট করে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখলে সেখানে দাগ হবে না।
২। শুষ্ক ত্বকের ব্রণের দাগ দূর করতে লবঙ্গ তেল খুব উপকারী।
৩। ব্রণ শুকিয়ে যাওয়ার পর মুখে চিনি আর দারুচিনি বাটা একসঙ্গে পেস্ট করে লাগাতে পারেন। লবঙ্গ বা দারুচিনি ত্বকে লাগানোর পর একটু জ্বালা করবে, এতে কোনো ক্ষতি নেই।

চোখের কালি দূর করতে:

১। শসা বা আলু ছেঁচে চোখের ওপর ২০ মিনিট রেখে দিন। ব্যবহৃত টি ব্যাগ কিছুক্ষণ চোখের ওপর রেখে দিলেও কাজে দেবে।
২। বাঁধাকপি সেদ্ধ করে তার পেস্টও চোখে লাগিয়ে রাখতে পারেন।
৩। পেস্তাবাদাম বাটার সঙ্গে অল্প মধু লাগিয়ে ব্যবহার করলেও চোখের কালি দূর হয়।
৪। করলা হালকা ছেঁচে চোখের ওপর দিয়ে রাখতে পারেন।

দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক

দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক

মেস্তার দাগ দূর করতে:

১। অ্যালোভেরা জেল বের করে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন।
২। তালমাখনা অথবা ইসবগুলের ভুষি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। থকথকে হয়ে যাওয়ার পর মুখে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে পারেন।

ব্ল্যাক হেডস দূর করতে:

১। পোলাওয়ের চাল ও মুগ ডাল আধা ভাঙা করে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখার পর যেসব জায়গায় ব্ল্যাক হেডস বেশি, সেখানে হালকা ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন।
২। সুজি হালকা ভেজে নিয়ে তার সঙ্গে টকদই ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩। ডিমের সাদা অংশ ও বেকিং সোডার মিশ্রণ মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখার পর টিস্যু পেপার দিয়ে চাপ দিলেও ব্ল্যাক হেডস সহজে উঠে আসে।
৪। লেবুর রস আর চিনি জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করার পর এই মিশ্রণ দিয়ে স্ক্রাবিং করে নিন। এরপর পরিষ্কার পাতলা কাপড় দিয়ে মুখে হালকা চাপ দিয়ে ব্ল্যাক হেডস তুলে নিতে পারেন।

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে:

১। টমেটোর রস এবং মধু রোদে পোড়া ভাব দূর করে।
২। গাজর, মধু এবং বেকিং পাউডারের মিশ্রণও কার্যকরী।
৩। শুষ্ক ত্বকে তিলের তেল ভালোভাবে কিছুক্ষণ মালিশ করে ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।




ত্বক ফর্সা করতে আমলকির ফেসপ্যাক

আমলকিতে থাকা উপকারী ফ্যাট, ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, কে, বি ১২ এবং ক্যালসিয়াম ত্বকের পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। এতে উপস্থিত আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়ামও নানাভাবে ত্বকের পরিচর্যা করে থাকে। নিয়মিত কাঁচা আমলকি খেলে অল্পদিনেই ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে। সেইসঙ্গে আমলকির ফেসপ্যাকও আমাদের ত্বকের পরিচর্যায় দারুণভাবে কাজ করে।

পরিচর্যায় দারুণভাবে কাজ করে।

Amloki-2

ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যাভোকাডো এবং আমলকির ফেসপ্যাক। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ আরও সব উপকারী উপাদান থাকে। বলিরেখা কমানোর মাধ্যমে ত্বকের বয়স কমাতে এই ফেসপ্যাকটি বেশ কার্যকরী। প্যাকটি তৈরি করতে চাইলে ২ চামচ আমলা পাউডার নিয়ে তার সঙ্গে ২ চামচ অ্যাভোকাডো নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মেশাতে হবে অল্প পরিমাণে দইও। এরপর সবকটি উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে সেটি মুখে লাগিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে

ত্বকের গভীরে লুকিয়ে থাকা ময়লাকে পরিষ্কার করতে ব্যবহার করুন চান আমলকি, দই এবং মধুর ফেসপ্যাক। এতে ত্বক তো পরিষ্কার হয়ই, সেইসঙ্গে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল এবং প্রাণবন্ত। এক্ষেত্রে ২ চামচ আমলা পাউডারের সঙ্গে পরিমাণমতো গরম পানি মেশাতে হবে। এরপর তাতে ১ চামচ মধু এবং দই মিশিয়ে সবকটি উপাদানকে ভালো করে নাড়িয়ে নিতে হবে। এবার পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। ত্বক সুন্দর হবেই!

ত্বককে ফর্সা করে তুলতে আমলকি ও পেঁপের ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। সেজন্য ২ চামচ আমলা গুঁড়ার সঙ্গে পরিমাণমতো গরম পানি মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এরপর তাতে ২ চামচ পেঁপে মেশাতে হবে। এবার পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।